

আমি সিহাব হোসেন,
২০০৩ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলায় খুবই নিম্নবিত্ত ঘরে আমার জন্ম। আর্থিক অবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে ২০১১ সালে পরিবারসহ আমরা ঢাকায় আসি। ছোটবেলা থেকেই মোবাইলে পৃথিবীর বড় বড় সফল ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার আর অনুপ্রেরণামূলক ভিডিও দেখতে আমার ভালো লাগতো। জানিনা কেন ভালো লাগতো কিন্তু ভালো লাগতো। তাদের সবার মুখেই একটা অভ্যাসের কথা বারবার শুনতাম— “বই পড়ার অভ্যাস”। সেই থেকেই আমার ভেতরে বই পড়ার এক তীব্র ইচ্ছা জন্মায়।
মোবাইলে বিভিন্ন অনুপ্রেরণামূলক পিডিএফ বই ডাউনলোড করে পড়তাম। কয়েক বছরের মধ্যেই আমি নিজের ভেতর এক চিন্তার পরিবর্তন লক্ষ্য করতে লাগলাম। বড় কিছু করার এক অদম্য ইচ্ছা বাড়তে শুরু করল। আমি আবিষ্কার করলাম, একজন মানুষ চাইলে পৃথিবীর সবকিছুই অর্জন করতে পারে, সেটা হোক নিজের পুরো ব্যক্তিত্ব বদলে ফেলা, বিষণ্ণ মানসিক অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া, পরকালে সফল হওয়া, ধন-সম্পদ অর্জন করা কিংবা পুরো দেশ ও পৃথিবী বদলে ফেলা, শুধুমাত্র সঠিক ‘আইডিয়া’ থাকলেই।
কিন্তু আমি দেখলাম আমার আশপাশের বেশিরভাগ মানুষই ভাষার ব্যারিয়ার ও জ্ঞান অর্জন বোরিং লাগার কারণে প্রতিনিয়ত জ্ঞান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আর বেশিরভাগ মানুষ ‘জ্ঞান’ বলতে বোঝে কেবল একাডেমিক পড়াশোনাকে। অথচ এর কোনো সত্যতা আমি কখনো খুঁজে পাইনি। একাডেমিক শিক্ষা কখনোই শেখায় না ‘কিভাবে চিন্তা করতে হয়’। এটি শুধু শেখায় ‘কী চিন্তা করতে হবে’ এবং ‘সেই চিন্তা দিয়ে কিভাবে আজীবন দাসত্ব করতে হবে।’
যার ফলে একাডেমিক শিক্ষার প্রতি আমার এক চরম ঘৃণার সৃষ্টি হয়। এজন্য আমি ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে কয়েক মাস ক্লাস করে একাডেমিক পড়াশোনা ছেড়ে দেই আর সারাদিনের দিনের বড় একটা অংশ আমি ব্যয় করতে শুরু করি সেই জিনিসগুলো শেখার পেছনে, যা আমাকে ও পৃথিবীর মানুষকে প্রকৃত স্বাধীনতা দেবে।
তারপর ২০২৫ সালে আমার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য তৈরি করলাম “আমি আমার মৃত্যু পর্যন্ত পৃথিবীর সকল জ্ঞানবঞ্চিত মানুষের কাছে সকল গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান পৌঁছে দেওয়া কাজ করব”। এরই প্রেক্ষিতে সেই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে আমি ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে আমার শেখা এই ক্ষুদ্র জ্ঞানগুলো সবার সঙ্গে শেয়ার করার সিদ্ধান্ত নিলাম। ❤️
“Give a man a fish and you feed him for a day; teach a man to fish and you feed him for a lifetime.”
—Maimonides